Saturday, 24 September 2011

janmashthmi

হেমলক - বৃষ্টি ঝরাচ্ছে আকাশ , দু হাতে ।

পাঞ্চজন্য হাতে ঘুমিয়ে গেছেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ ।

তাই , কুরুক্ষেত্র এখন নিজেই

অর্জুনের রথের সারথি। আপনি

কোথায় যাচ্ছেন বৃদ্ধ পিতামহ ?

ভুমি – পতাকা উড়ছে যে , আপনার ক্ষুব্ধ নিঃশ্বাসে !

কোন মৃগয়া , এই অবেলায় ...

বার্ধক্য যে আপনার রথের চাকায় !



শত পুত্রের জননী , গান্ধারী

পিছিয়ে কেন তুমি ? এই যুদ্ধ – ক্লান্ত ভূমি

বিষ এবং বিষাক্ত অণু পরমাণু ...

তুমি একমাত্র গর্ভাশয় , তোমারি একশত ডিম্বাণু ।

পরাও আজ তবে রক্ত – তিলক, কপালে

হে সুবর্ণা জননী !



দ্রোণাচার্য , আপনিও আসুন এগিয়ে

মনে আছে , সেই কতদিন আগে , কিভাবে

গুরুদক্ষিনা নিয়েছিলেন হাসিমুখে , এতোটুকু বুক কাঁপে নি আপনার ?

একলব্য নাম ছিল তার , দুরমুল্য ক্ষতস্থানে, আজো

শুকিয়ে অনভিজাত রক্ত !

গুরুদেব, শেষ অব্দি আপনিও অস্ত্র ত্যাগ করলেন নতমুখে ! অঙ্গীকার বদ্ধ পুরুষ ,

আজ আপনিও পরাজিত কুরুক্ষেত্র !





দাবানল জ্বলছে ।

অমৃত – কুম্ভ কাঁধে নিয়ে

বহুদিন পর পিতামহ ফিরছেন মহাভারতে । তাঁর

শ্বাস – বায়ু তে উড়ছে সততা , নিশ্চিন্তে

নির্ভীক ইশ্বর – কণা ভাসে বাতাসে । তরঙ্গে – তরঙ্গে

পাঞ্চজন্য উঠলো বেজে ... নিষ্কলুষ আকাশে

কালপুরুষ , হে শ্রীকৃষ্ণ ,

এবার আপনিও উঠুন জেগে ...

সেই কখন থেকে , আর্তস্বরে ,

পাঞ্চালী খুঁজছে আপনাকে !

duti shalik

আমার স্বভাব – ভীরু গোপন ত্বকে

লেগে গেলো তোমার হাল্কা বাদামি রঙ ।

আচমকা তুমি ।

বাতাসে বসন্ত ছিলো না এতো টুকু , তাও ।

ময়ূর পঙ্খী নৌকা টি শেষ পর্যন্ত

ভাসলো কোথায় , জলে না অরন্যে

কে জানে...?

কিন্তু , সন্ধ্যের সময়

আমার আঙ্গুলে , বাধ্য

তোমার মাথার চুল গুলি , অসময়ে কেমন ঘুমিয়ে পড়লো

বালিশ – বুকে , আমার আবছা ঘাম

গায়ে জড়িয়ে ।

রাত এলো অযথা !

আঁধার , শরীরে ।

আজকাল, আমার বুকের ভেতরে

হৃৎপিণ্ড আর ফুসফুসের মাঝখানের

খালি জায়গা টিতে , দুটি শালিখ

হামেশাই গল্প করে ।

ভালো কোরে শোনো , কানেকানে ওরা বলছে ,

বুকের ভেতর অন্ধকারে ওড়া উড়ি

তো অনেক হোলো ...

এবার উড়ি চলো খানিক

বাইরের আলোতে...... !

bononil

আমি খুব ঘন ঘন প্রেমে পড়ি ।

কখনো কোনও অচেনা পাহাড়ের ,অথবা অল্প চেনা কোনও একটি নদীর

কোনদিন কোনও গান ...হারানো সুর

কখনো একটি পাখি ...

এই যেমন গত সপ্তাহে

আমি একটি নামের প্রেমে পড়েছিলাম

“বনোনীল”

গাঢ় সবুজ দ্বীপের মতো একজন মানুষ ।

এতো গাঢ় এবং এতো সবুজ যে দূর থেকে নীল বলে ভ্রম হয় ।

অরন্যের মতো একা ,গা ছমছমে এই মানুষ টিকে

কোনও নারী ছুঁয়ে দেখেনি আজো । কচি কলাপাতা সবুজ

গায়ে জড়িয়ে

ও দাঁড়িয়ে আছে একা ,

বৃক্ষ হয়ে ।

বনোনীল আজো বৃষ্টি তে ভেজেনি কখনো ।





এখুনি এইমাত্র আমি একটি মেঘের প্রেমে পড়লাম ।

এতো উজ্জ্বল কালো দেখতে তাকে ...যেন আলোর ঢেউ

ময়ূরের মতো চোখ দু খানি

মনে হোলো , নাম রাখি ওর ,ময়ূরাক্ষী ।

কাছে গিয়ে স্পর্শ করি ,বিদ্যুৎ শিখা- বিনুনি ।

ও এগিয়ে গেলো দ্রুত পায়ে ,

ভেসে ভেসে ...কোথায় কে জানে ......







একটু বাদে দেখছি

ময়ূরাক্ষী পৌঁছে গেছে ... বনোনীলের কাছে ।

আকাশের যতো মেঘ দু জনের পায়ের কাছে হয়েছে জড়ো ,

যেখানে যতো সবুজ ছিল

বনোনীলের শরীরে ও মনে

সব ঝরে গেলো বাতাসে

আর ময়ূরাক্ষীর মেঘলা রঙের ওড়না গেলো উড়ে ...অনেক দূরে ...আকাশে ।





একটু পরে

ভালোবাসা রঙের বৃষ্টি নামলো

বনোনীলের ঘরে......

তুমি জানো শুধু আমাকে

আজকাল আমার কবিতা গুলোকে সবাই একডাকে চিনছে । যদিও ক জন কবি – বন্ধু

মোটেই পছন্দ করছেন না আমার লেখা ।

তারা মনে করেন যে আমি শুধু প্রেমের কবিতা লিখি ।

আমার কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই ।



আমার প্রেম ও বিশুদ্ধ প্রেম নয় কিন্তু । সিগারেটের ধোঁয়া ..মহুয়ার গন্ধ

আর চুমু ? সেতো যখন তখন । কবিতার ঠোঁটে প্রতিদিন তার সাবলীল যাতায়াত ।

প্রয়োজনে শরীর উঁকি ঝুঁকি দ্যায় কতবার ! আমি

অনায়াশে অশ্লীলতায় ডুবি ,

মদ – মহুয়ায় ভাসি

কবিতায় আসি, সছন্দে , বারবার।

আমার

যতবার খুশী ।



আমি ভাবি , বন্ধুরা কতো কম জানে আমার সম্পর্কে !

ওরা তোমার কথা কেউ জানে না, সুবর্ণরেখা ।

ওরা জানে না , তুমি আমার একমাত্র নিজস্ব নদী ।

জলে থই থই স্নান – ঘর ।

আমি প্রথম কুমারিত্ব হারিয়েছি তোমার বুকজলে ।

পা ভিজেয়েছি গোধূলি – কালে

তোমার শরীর খুঁড়ে খুঁড়ে কতো নুড়ি – পাথর পাই ,

মুগ্ধ হই ,

...শব্দ কোরে

চুমু খাই তোমার ছায়ায়, অক্ষর গড়ি কবিতায় ,

শরীরের পর শরীর ভাঙি আমি ,

বর্ষায় , গোপনে যেমন তীর ভাঙে তোমার ঢেউ

একটার পর একটা ।



আমার বন্ধুরা আমার সম্পর্কে কতো কম জানে বলো তো...!

ওরা তোমাকে চেনে না

ওরা আমাকে জানে না

সুবর্ণরেখা

শুধু তুমি চেনো

আমাকে।

একমাত্র তুমি জানো

আমি প্রথম বুর্জোয়া - যুবতী – বেলা

তোমার ধনতান্ত্রিক শরীরে ......... !